🇧🇩 জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ: ‘বাংলাদেশকে মেনে নিয়েই রাজনীতি করছি’
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ আমাদের অর্জন, বারবার বলেছি, বাংলাদেশকে মেনে নিয়েই কিন্তু সবাই রাজনীতি করছে। আমরাও তা-ই।"
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি-এ জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "আমরা বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক প্রসেস মেনেই রাজনীতি করে আসছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ আমাদের অর্জন, বারবার বলেছি, বাংলাদেশকে মেনে নিয়েই রাজনীতি করা হচ্ছে। আমরাও তা-ই করি। সুতরাং এখানে পেছনের কথা টানার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ মুক্তিযুদ্ধ না মানে, তাহলে সে বাংলাদেশকে অস্বীকার করছে।"
আযাদ জানান, "জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার পর যদি সেই আলোকে জাতীয় নির্বাচন হয়, তবে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে।" তিনি বলেন, "আমরা আগামী দিনে যে ক্রেডিবল (গ্রহণযোগ্য) নির্বাচন চাই, সুষ্ঠু এবং ইতিহাসের সেরা নির্বাচনের কথা বলছি, সেটা সবই সম্ভব হবে যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে নির্বাচন হয়।"
তিনি আরও বলেন, "এটা আমরা বলেছি, আমরা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি রচনা করে তার ভিত্তিতে নির্বাচন হতে হবে।"
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে স্বীকৃত হবে।" তিনি আরও বলেন, "যদি এটা আইনি প্রক্রিয়ায় না আসে, তাহলে স্টেট এভিডেন্স হিসেবে, ডকুমেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। তখন আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি—সুশাসন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক, জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র—তা কায়েম করা সম্ভব হবে না। পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের সবকিছু সংস্কার করে, ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে নবযাত্রা শুরু করতে, তার জন্য জুলাই চার্টারের আইনি ভিত্তি জরুরি।"
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "আমরা বলেছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হতে হবে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দিয়ে, যাতে পরবর্তী সময়ে সনদটি চ্যালেঞ্জ না করা যায়।" তিনি বলেন, "এই আইনি ভিত্তি সংবিধানের অনুচ্ছেদ–৭-এ জনগণের পরম অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে যদি করা হয়, এটি সবচেয়ে শক্তিশালী হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার এটা করার পর, এটাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। মানে শক্তির ওপর শক্তি, জোরের ওপর জোর। যদি এটা রেফারেন্ডামে (গণভোট) দেওয়া হয়, তাহলে আর কোন বিন্দু পরিমাণও ছিদ্র উন্মুক্ত থাকার সুযোগ থাকবে না। আইনি চ্যালেঞ্জ বা অন্য কোনোভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না।"
হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন যে, জামায়াত সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাবে আইনি ভিত্তির গুরুত্ব, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
আযাদ বলেন, "বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় ঐকমত্য এবং সরকারের সাথে সংলাপের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।"
হামিদুর রহমান আযাদ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, দলটি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা চায়। তবে, তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনি সুরক্ষা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |